Soft Forests

ব্যবসায়ের জন্য ওয়েবসাইট এর গুরুত্ব ও সুবিধা

admin

admin

ব্যবসায়ের জন্য ওয়েবসাইট এর গুরুত্ব ও সুবিধা

আজকের এই ডিজিটালাইজেশনের যুগে শুধু অফলাইন এ বিজনেস থাকা যথেষ্ট নয়, বরং অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনে ও আপনার উপস্থিতি থাকা অপরিহার্য। অনলাইনে আপনার উপস্থিতির অন্যতম মাধ্যম হল সুন্দর একটি ওয়েবসাইট।

প্রতিযোগিতার এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে ব্যবসার প্রচার ও প্রসারের জন্য একটি বিজনেস ওয়েবসাইট এর বিকল্প আর কিছুই নেই। এছাড়া এটি আপনার ব্র্যান্ড এর ভিজিবিলিটি ও উপস্থিতিকে বুঝায়। যার ফলে আপনার ব্র্যান্ড এর উপর সহজেই মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়।

আপনি জেনে অবাক হবেন যে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ১৯২ কোটিরও বেশি ওয়েবসাইট রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ২৫২,০০০ ওয়েব সাইট তৈরি হচ্ছে। যদি ওয়েব সাইট এর প্রয়োজন না-ই থাকতো তাহলে প্রতিদিন এতোগুলো ওয়েব সাইট তৈরি করা অবশ্যই হতো না। 

আপনি যদি একজন উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হন তবে আপনার ব্যবসায়ের জন্য অবশ্যই একটি বিজনেস ওয়েবসাইট থাকা দরকার। শুধুমাত্র একটি ফেসবুক পেজই যথেষ্ট নয় আপনার ব্যবসায়কে লং টাইম সফলতা এনে দিতে।

এই আর্টিকেলে আমরা একটি বিজনেস ওয়েবসাইটের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত খুঁটিনাটি জানার চেষ্টা করবো।

ওয়েবসাইট ও বিজনেস ওয়েবসাইট কি?

ওয়েবসাইট হলো – একটি নির্দিষ্ট ওয়েব সার্ভারে রাখা এমন ওয়েব পেজ, ভিডিও, অডিও, ছবি বা যেকোনো ধরনের তথ্য যা, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অ্যাক্সেস বা প্রবেশ করা যায়। সহজ ভাষায়, ডোমেনের মাধ্যমে দেখা যায় এমন ওয়েব সার্ভারে জমা রাখা ওয়েব পেজ বা পাতা, ভিডিও, ছবি, অডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যের সমষ্টিকে ওয়েবসাইট বা সাইট বলা হয়।

সহজ কথায়, আপনি যখন আপনার ব্রাউজারে “facebook.com” টাইপ করেন তখন আপনি কী দেখতে পান? অবশ্যই ফেসবুক। এই ফেসবুক একটা ওয়েবসাইট। আবার uylab.org লিখে সার্চ করলে আমরা UY Lab এর ওয়েবসাইট দেখতে পাই। অর্থাৎ, এক কথায় কোন ডোমেইন নাম লিখে সার্চ করার পর আমরা যা দেখতে পাই বা আমাদের চোখের সামনে যা ভেসে ওঠে তাই হলো ওয়েবসাইট। আর যে সকল ওয়েবসাইট বিজনেস করার জন্য তৈরি করা হয়, তাকে বিজনেস ওয়েবসাইট বলে। বিজনেস ওয়েবসাইটের ইন্টারফেস নরমাল ওয়েবসাইট থেকে একটু আলাদা হয়ে থাকে।

যখন আমরা একটি ওয়েব ব্রাউজারে একটি URL প্রবেশ করি, তখন আমাদের সামনে যে ভিজ্যুয়াল দৃশ্যটি প্রদর্শিত হয় সেটি মূলত ওয়েবসাইটের হোম পেজ। এই মূল পেজের সাথে আরও অন্যান্য পেজ যোগ করে ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়।

একটি ওয়েবসাইট হলো – একটি HTML ডকুমেন্ট যা, ইন্টারনেটের একটি ওয়েব সার্ভারে স্টোর করা থাকে। সেখানে HTML ডকুমেন্ট এর সাথে লেখা, ভিডিও বা ছবিসহ ওয়েবসাইট এর সব ধরনের উপাদান থাকে। এই নথিটি HTTP/HTTPS প্রোটোকল ব্যবহার করে একটি ওয়েব ব্রাউজারের মাধ্যমে অ্যাক্সেস বা ভিজিট করা যেতে পারে।

মূলত, একটি ওয়েবসাইট হলো – ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক প্রসারের জন্য বিশ্বব্যাপী সবার কাছে পণ্য বা সার্ভিসের বর্ণনা দিয়ে একটি ভিজুয়াল অনলাইন পেজ বা পাতা তৈরি করা।

ওয়েবসাইটের প্রকারভেদ

ওয়েবসাইট মূলত ২ ধরনের হয়ে থাকে। যেমন –

স্ট্যাটিক ওয়েব সাইট

এই ধরনের ওয়েবসাইট যেগুলির কন্টেন্ট ব্রাউজ করার সময় পরিবর্তন করা যায় না তাকে স্ট্যাটিক (Static) ওয়েবসাইট বলা হয়। এটি শুধুমাত্র HTML, CSS এবং JavaScript দিয়ে করা হয়।

ডায়নামিক ওয়েব সাইট

যে সকল ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ওয়েবসাইট চালু অবস্থায় বা ব্রাউজিং করার সময় পরিবর্তন করা যায়, এ ধরনের ওয়েবসাইট গুলোকে ডায়নামিক বা পরিবর্তনশীল ওয়েবসাইট বলে। যেমন –  নিউজ পোর্টাল , ব্লগ সাইট , ই-কমার্স , ই-লার্নিং , সোশ্যাল , কমিউনিটি ফোরাম ওয়েবসাইট ইত্যাদি।

বিজনেস ওয়েবসাইট কেন প্রয়োজন?

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৯২ কোটিরও বেশি ওয়েবসাইট আছে। যার মধ্যে ৭১% ছোট ব্যবসায়ীর নিজস্ব ওয়েবসাইট রয়েছে। সম্ভাব্য গ্রাহকদের ৭০-৮০% ওয়েবসাইট ছাড়াই ব্যবসায় হারিয়ে যেতে পারে। ৬৮% কোম্পানি তাদের বিক্রয় বৃদ্ধি করেছে বিজনেস ওয়েবসাইটের মাধ্যমে।

এছাড়া আপনার বিজনেসের যদি একটি Website থাকে, তাহলে আপনার এবং আপনার বিজনেসের প্রতি মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি ও আপনার ব্র্যান্ডের অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। তাই প্রতিযোগিতার এই বাজারে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে আপনার বিজনেস ওয়েবসাইট এর কোনো বিকল্প নাই।

কোনো কনজ্যুমারকে কোনো পণ্য ক্রয়ে আগ্রহী করতে ফার্স্ট ইম্প্রেশন খুবই জরুরি। ৫৭ শতাংশ কাস্টমার যখন দেখে প্রতিষ্ঠানের কোনো বিজনেস ওয়েবসাইট নাই, এমন ব্যবসা থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করে।

একটি সাম্প্রতিক রিপোর্ট এ দেখা গেছে যে, ৮৮% এর ও বেশি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান যাদের ওয়েবসাইট আছে, তাদেরকে তাদের কাস্টমাররা খুব সহজেই অল্প সময়েই খুঁজে পেতে পারে । মনে করুন, আপনার কাছে খুব ভালো মানের পণ্য বা প্রোডাক্ট আছে। এই পণ্য বা প্রোডাক্টগুলি Facebook মার্কেটপ্লেসে থাকতে পারে। তবে Google সার্চের সাথে পরিচিত লোকেরা সহজেই আপনার পণ্যটি খুঁজে পেতে পারবে না, যদি আপনার একটি ভাল মানের বিজনেস ওয়েবসাইট থাকে না থাকে এবং আপনার পণ্যটি সেখানে তালিকাভুক্ত করা না থাকে। এতে সহজেই বুঝা যাচ্ছে যে, আপনার যদি একটি ওয়েবসাইট না থাকে, তাহলে আপনি আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকদের হারাতে চলেছেন ।

বিজনেস ওয়েবসাইট কীভাবে তৈরি করে?

ওয়েবসাইট তৈরি করা একটি পর্যায়ক্রমিক কাজ। ওয়েবসাইট তৈরি এবং মেইন্টেইন করার জন্য টেকনিক্যাল জ্ঞানের প্রয়োজন। কীভাবে একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় তার বিস্তারিত ধারণা নিচে দেওয়া হলো –

ডোমেইন হোস্টিং

আমি, আমরা সবাই জানি যে, প্রতিটি ওয়েবপেজ অনলাইনের সার্ভারে জমা থাকে। সার্ভারে সংরক্ষণ করা এবং তা থেকে ট্র্যাফিক বা ভিজিটরের সামনে ওয়েব পেজ প্রদর্শিত করার জন্য প্রয়োজন পরে ডোমেইন এবং হোস্টিংয়ের। ওয়েবসাইটের নাম এবং অ্যাড্রেস (URL) কে ডোমেইন (Domain) বলা হয়। এই ডোমেইন দ্বারা ইন্টারনেটে থাকা কোটি কোটি ওয়েবসাইট থেকে একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়।

আর হোস্টিং হলো – ওয়েবসাইটের সকল ফাইল সংরক্ষণ করে রাখার জায়গা, যাকে সার্ভার বলে। ডোমেইন ক্রয় করার পর তা হোস্টিং এর সাথে কানেক্ট করতে হয়। এতে যখন কোন ইউজার ওয়েব ব্রাউজারে ডোমেইন নেম প্রবেশ করে তখন তা হোস্টিং এর কাছে HTTP/HTTPs রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে কাঙ্ক্ষিত ওয়েবপেজ আমাদের সামনে তুলে ধরে।

প্লাটফর্ম নির্বাচন

সাধারণত দুই ধরনের ওয়েবসাইট থাকে – স্ট্যাটিক এবং ডাইনামিক। আপনি কাস্টম ওয়েবসাইট এবং CMS- ভিত্তিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। একটি কাস্টম সিস্টেমে, আপনি যেকোনো প্রোগ্রামিং ভাষায় কোড লিখে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন, যেকোনো ওয়েব পেজ তৈরি করতে পারেন এবং সার্ভারে আপলোড করতে পারেন।

অন্যদিকে, ওয়ার্ডপ্রেসের মতো একটি সিএমএস দিয়ে আপনি সহজেই রেডিমেড থিম বা টেমপ্লেট ইনস্টল করে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। তাই, ডোমেইন হোস্টিং ব্যবহার করার পরে, আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কোন পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান তা নির্ধারণ করতে হবে।

কন্ট্রোল প্যানেল

কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ প্যানেল হলো আপনার ওয়েবসাইটের হোস্টিং ড্যাশবোর্ড নিয়ন্ত্রণ করা। একটি ওয়েবসাইটের সব ধরনের টেকনিক্যাল ডাটা এবং সেটিংস এখানে থাকে। আপনার কন্ট্রোল প্যানেল থেকে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের সমস্ত কন্টেন্ট এবং থিম ফাইল আপলোড, ডাউনলোড এবং ডিলিট করে ফেলতে পারেন৷ এছাড়াও, আপনি অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস, যেমন – সিকিউরিটি সেটিংস পাবেন।

ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট

ওয়েবসাইট ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনার ডিজাইন নির্ধারণ করে দেয় সাইটটি আপনার ভিজিটরদের কাছে কেমন দেখাবে। একটি ওয়েবসাইট তৈরির উদ্দেশ্য এবং সাফল্যের মধ্যে ডিজাইন একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে।

অন্যদিকে, পুরো ওয়েবসাইটের কর্মক্ষমতা নির্ভর করে এর পারফর্মেন্সের উপর। অর্থাৎ আপনার ওয়েবসাইট কোন ধরনের ঝামেলা ছাড়া ২৪/৭ চলার জন্য এবং নিত্যনতুন ফিচার যোগ করার জন্য ডেভেলপমেন্ট প্রয়োজনীয়। মোটকথা ওয়েবসাইট সম্পূর্ণটাই ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্টের উপর নির্ভরশীল।

ওয়েবসাইট পাবলিশ

যখন আপনার উপরে বর্ণিত সকল কাজ করা শেষ হয়ে যাবে তখন আপনার ওয়েবসাইট ইন্টারনেটে পাবলিশ করার জন্য পুরোপুরি রেডি হয়ে যাবে। ওয়েবসাইটের সব ধরনের টেস্ট এবং বাগ ফিক্সিং করা হয়ে গেলে কনটেন্ট লিখে তা ইন্টারনেটে পাবলিশ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমেই সার্চ ইঞ্জিনে ওয়েবসাইটটিকে ইনডেক্স করাতে হবে যাতে, মানুষ গুগল বা বিং এ সার্চ করেই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করতে পারে।

বিজনেস ওয়েবসাইট এর সুবিধা

একটি কোম্পানি তখনই বৃদ্ধি পায় যখন তার গ্রাহক বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে একটি ওয়েবসাইট বিরাট ভূমিকা রাখে। যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান খুব কম খরচে তাদের ব্যবসায়ের বিকাশের জন্য একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারে। আপনি বিশ্বের যেদিকেই তাকান না কেন, আপনি ইন্টারনেটে যত গ্রাহক এক সাথে সংগ্রহ করতে পারেন তার থেকে বেশি গ্রাহক অন্য কোথাও খুঁজে পাবেন না। ব্যবসায়ের প্রচার-প্রচারণা থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজকর্ম একটি সাইট দিয়েই পরিচালনা করা সম্ভব।

উদাহরণ আমাদের সামনেই আছে – ‘দারাজ’ কেই দেখুন না! একটি সাইট কত বড় হতে পারে এবং কতটা লাভজনক হতে পারে তা  আপনি এই সাইট দেখেই ধারণা করতে পারবেন।

আপনার কোম্পানির একটি বিজনেস ওয়েবসাইট থাকলে, আপনি সহজেই আপনার কোম্পানির সমস্ত সার্ভিস কাস্টমারদের অফার করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ – আপনার যদি কোনো বিষয়ে দক্ষতা থাকে, তবে আপনি একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনার সে কাজ সংক্রান্ত সমস্ত সার্ভিস অফার করতে পারেন। এইভাবে, আপনার ওয়েব সাইট একটি ব্র্যান্ড হিসাবে কাজ করবে এবং আপনি সহজেই সার্ভিসগুলি ওয়েবসাইট দ্বারা অফার করতে পারবেন।

একটি ওয়েব সাইট থাকার কারণে কাস্টমারদের কাছে আপনার ব্র্যান্ডের প্রতি ট্রাস্ট তৈরি হবে ফলে, আপনার প্রোডাক্ট কেনার সম্ভাবনা থাকবে বেশি। ভিজিটররা খুব সহজেই যেকোনো সময় যেকোনো জায়গা থেকে আপনার পণ্য বা সার্ভিস সম্পর্কে দেখতে ও জানতে পারবে ।

Website বর্তমান অনলাইন সেক্টরে একটা বিশ্বস্ততার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন ব্যক্তি যখন কোনো কিছু সার্চ করে আপনার সাইট পাবে ও আপনার সকল তথ্য দেখবে, তখন আপনার প্রতি তার বিশ্বস্ততা তৈরি হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এতে করে আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালু বাড়বে।

ভার্চুয়াল স্টোর

আপনার যদি ফিজিক্যাল দোকান থাকে, আর কাস্টমারদের যদি সেখান থেকে কেনাকাটা করতে হয়, তাহলে ক্রয় করার জন্য আপনার দোকানে আসতে হবে, কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট থাকলে কাস্টমাররা যেকোনো স্থান থেকে ক্রয় করতে পারবে। কেনার জন্য আপনার দোকানে আসার প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া আপনি যেকোনো জায়গা থেকে পণ্য বিক্রয় করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ক্রেতা ঢাকার হোক বা অন্য কোন জায়গার। এমনকি আপনি দেশের বাহিরেও পণ্য বা প্রোডাক্ট সেল করতে পারবেন। ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনি বিশ্বব্যাপী ব্যবসায় পরিচালনা করতে পারবেন।

ব্রান্ড ইমেজ তৈরি

আপনার ওয়েবসাইট যখন মানুষের মাঝে পরিচিতি লাভ করবে তখন আপনি ব্রান্ড ভ্যালু অর্জন করতে পারবেন। আর ব্রান্ড ইমেজ যত বেশি অর্জন করতে পারবেন, ততই আপনার ব্যবসায়ের জন্য ভালো হবে।

সময় ও কাজ বাঁচে

আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে সব ইনফরমেশন দিয়ে সুন্দর করে সাজান এবং ভালো করে অপ্টিমাইজ করেন তাহলে আপনার অনেক সময় বাঁচবে, কাস্টমার আপনার ওয়েবসাইট এ যেয়ে নিজের অ্যাড্রেস, নাম্বার, ই-মেইল ইত্যাদি প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অর্ডার করতে পারবে, আপনার কোন কিছু করা লাগবে না। কিন্তু ফেসবুক পেইজে এটা সম্ভব না , আপনাকে প্রতিটি অর্ডার কনফার্ম করার জন্য প্রত্যেক কাস্টমারকে কল করে অর্ডার কনফার্ম করতে হবে এবং সকল তথ্য নিতে হবে তারপর অর্ডার কনফার্ম করতে হবে।

কিন্তু আপনার যদি ওয়েবসাইট থাকে তাহলে এত ঝামেলা করতে হবে না ।

কাস্টমারদের সাথে যোগাযোগ

একটি ওয়েব সাইট আপনার গ্রাহকদের আপনার সাথে যোগাযোগ করার একটি উপায় তৈরি করে দেয়। আপনি গ্রাহকের প্রশ্ন এবং পরামর্শের জন্য একটি যোগাযোগ ফর্ম বা চ্যাট সিস্টেম প্রদান করতে পারেন। এটি আপনার গ্রাহকদের এমন অনুভূতি দেয় যে, তারা যে কোনো সময় আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

সেবা তথ্য

সার্ভিস বা পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া যেতে পারে। এটি গ্রাহকদের কীভাবে সার্ভিসটি কাজ করে এবং কেন এটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তা শিখার ও জানার সুযোগ তৈরি করে দেয়৷ পণ্য বা সার্ভিসের বিবরণ, দাম, প্যাকেজ অফার, নিরাপত্তা নীতি এবং অন্যান্য রিলেটেড তথ্য গ্রাহকদের কাছে সহজেই অ্যাক্সেসযোগ্য হয়।

বিল গেটস এর একটা উক্তি আছে ‘If your business is not on the Internet, then your business will be out of business’

ওয়েবসাইটের গুরুত্ব

ব্যবসায়ের জন্য ওয়েবসাইটের কিছু গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো –

পিক্সেল সেটআপ

আপনার ওয়েবসাইটে যদি পিক্সেল সেট আপ করা থাকে, তাহলে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করা সকল ভিজিটরদের ব্যবহার, তাদের চাহিদা, তারা কোন কোন প্রোডাক্টের উপর ইন্টারেস্ট তা আপনি সহজেই জানতে পারবেন।

ডেটা অ্যানালাইসিস

পিক্সেল সেট আপ করা হয়ে গেলে আপনি খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটের ডেটা অ্যানালাইসিস করতে পারবেন। কোন বয়সের মানুষ, কোন কোন পেজে ভিজিট করছেন, তা আপনি সহজেই বের করতে পারবেন।

অডিয়েন্স রি-টার্গেটিং

আপনি পিক্সেলের মাধ্যমে আপনার কাস্টমারদের সহজেই রি-টার্গেটিং করতে পারবেন। আপনার ওয়েবসাইটে কোন বয়সের, কোন প্রোডাক্টের কোন কোন ইন্টারেস্টেড ভিজিটর আছে, তাদেরকে টার্গেট করে আপনি পরবর্তীতে আবার আপনার সেলস ক্যাম্পেইন চালাতে পারবেন।

ডায়নামিক মার্কেটিং

ওয়েবসাইট থাকার ফলে আপনি ভিজিটরদের অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করে রিটারগেটিং করে ডায়নামিক মার্কেটিং করতে পারবেন এবং আপনার পটেনশিয়াল কাস্টমারদের কাছে পৌঁছাতে পারবেন ফলে সেল বৃদ্ধি হবে। Business website থাকার ফলে আপনার মার্কেটিং এ কম খরচ হবে, যার বিনিময়ে আপনার গ্রাহক সংখ্যা কম খরচে অনেক বৃদ্ধি পাবে।

এখন আপনি জানেন কেন আপনার ব্যবসার জন্য একটি বিজনেস ওয়েবসাইট দরকার। সুতরাং, আপনার ব্যবসার সম্প্রসারণ বাড়াতে এবং আরও বেশি প্রফিট অর্জনের লক্ষ্যে আপনার ব্যবসার জন্য একটি প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরি করা উচিত। কারণ ভবিষ্যতে ওয়েবসাইটের চাহিদা বাড়তে থাকবে এবং যেকোনো ব্যবসায় বা অফিসিয়াল কাজ ওয়েবসাইট ভিত্তিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং যেকোনো সার্ভিস মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য ডিজিটাল যুগে ওয়েবসাইটের ব্যবহার নজিরবিহীন।

PLEASE SHARE THIS

আমাদেরকে আনুসরন করুন

SOCIAl MEDIA

নিউজলেটার

আমাদের বিভিন্ন প্যাকেজ আপডেট, অফার কিংবা নিউজ আপনার ইমেইলে সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।